An archive of works produced, ideas explored, stages taken, conversations shared.
সামিনা লুৎফা নিত্রা
১৩ আগস্ট, ২০২০
অ্যাক্টরদের পরার্থ ভাবতে হয়!
এবার আসা যাক পরার্থের প্রশ্নে! এত যাকে স্বার্থপর হতে হবে, তাকে আবার পরার্থও ভাবতে হবে! মগের মুল্লুক নাকি! একবার বলে স্বার্থ আরেকবার পরার্থ! দেশের আইনের শাসন খারাপ হলে তাকে মগের মুল্লুক বলে, সে বিচারে এটা কিছুটা সত্যিই বটে! যাক অন্য প্রসঙ্গে না গিয়ে অভিনয়ের আলাপে থাকি, যেহেতু স্যাটায়ার করলে বা কার্টুন আঁকলে এদেশে জেল-টেলে চলে যেতে হয়, জামিন-টামিন ছাড়া মাস-বছর কেটে যায়, কাজেই ডিজিটাল মাধ্যমে লেখালেখি করে বিপদের ব্যবস্থা না করে আমাদের বেশিরভাগ ‘শিল্পী’র মতো একটা খুব নিরীহ এবং অরাজনৈতিক লেখা আজকে আমার অভীষ্ট।
“কেউ যদি স্বার্থহীন হবার প্রশিক্ষণ নিতে চায়, তার সবার আগে শেখা উচিত মেথড অ্যাক্টিং”– এমন একটা খুচরা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ২০১৯ এ। অনেকে প্রশ্ন করেছিলেন বিষয়টা বুঝতে চেয়ে। কথা দিয়েছিলাম যে অশিক্ষিত অ্যাক্টরের অভিনয় ভাবনা সিরিজের অংশ হিসাবে সেটা লিখে ফেলবো। মাত্র একবছর সাড়ে তিন মাস পর সেটা শেষ করার কড়া ইরাদা নিয়ে বসেছিলাম গতরাতে। সারারাতে লিখেছিলাম সাকুল্যে টান টান তিনটি প্যারা! ভোরে ঘুম লেগে আসা চোখে পুরাটা ডিলিট করে সেভ করে ঘুমিয়ে পড়ায় কী যে কিভাবে লিখেছিলাম সব হারালাম! রাগ করবো না নতুন আশায় বুক বাঁধবো পরোয়া না করে আবার লিখছি। ২০১৯-এর এপ্রিলের সে স্ট্যাটাসটা ছিল খানিকটা দুষ্টুমি করে লেখা আসল কথাটাকে খানিক আড়াল করে; খেয়ালী না হলেও হেঁয়ালি ছিল—ইচ্ছে করে বানানো ধোঁয়াশা, লেখার কুয়াশা। কথাটাকে একটু ঘুরিয়ে যদি পড়েন দেখবেন অত জটিল না ব্যাপার— “অভিনয়টা শিখতে গেলে আসলে স্বার্থহীন হওয়াটা শিখতে হয়”। ভাবনা ২ এর শুরুতে বলেছিলাম যে অভিনয় ব্যাপারটা গোলমেলে, এখন দেখছি যে স্বার্থটাও। কারণ কথাটা অ-অ্যাক্টরদের জন্যও জরুরি। আজকের ভাবনার অংশে আমি দুই দিক থেকেই কথাটা দেখবো। প্রথমে দেখবো অভিনয় শিখতে গেলে স্বার্থহীন কী করে বা কেন হতে হয় বা আরেকটু এগিয়ে পরার্থের কথা ভাবতে হয় কেন! দ্বিতীয়ত দেখাবো যারা অভিনয় শিল্পের সাথে জড়িত নন তারা অভিনয়ের মত একটি আপাত সামাজিকভাবে হেয় ও ব্রাত্য শিল্পরীতির মূল বিষয় থেকে কী করে পরার্থ ভাবনার মূল কথাটা শিখে নিতে পারেন। অভিনয় যে সামাজিভাবে হেয় সেটা নিয়ে তর্ক এখানে করব না। কারো মনে প্রশ্ন থাকলে এই আলাপ পরে হবে। জানি, লেখা বড় হয়ে যাচ্ছে।
Rehearsing the Witness
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে বাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভুত নির্দেশক জুলেখা চৌধুরীর Rehearsing the Witness নামের একটি পারফরম্যান্সে অংশ নিয়েছিলাম। অডিশনও নিয়েছিলেন জুলেখা। এই পারফরমেন্সটি সেবারের ঢাকা আর্ট সামিটে শোকেসড হয়েছিল দুই ভাগে। একটা ছিল ইন্সটলেশন হিসাবে, ভাওয়াল রাজার কেসটি সম্পর্কে দেয়ালে নানা তথ্য সাজানো ছিলো, পুরো আদালতের একটা প্রমান সাইজ রেপ্লিকা করে সেটা ইন্সটল করা ছিল আর দেয়ালে ছিল ভাওয়াল রাজার স্ত্রী বিভাবতী দেবী যিনি এই মামলার প্রধান বিবাদী তার একটি জবানবন্দির ভিডিও। বলা বাহুল্য হবে না বরং জরুরি যে বিভাবতী চরিত্রে এই ভিডিওটিতে যাকে দেখা যাচ্ছিল সেটা আমি। আরেক ভাগে একদিন সকালে মিলনায়তনে সেট ফেলে বিচারটি রিএনাক্ট করা হয়েছিল। বাদী পক্ষের উকিল ছিলেন ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া, বিচারক ছিলেন, ছিলেন সাক্ষী-সাবুদ, আর ছিলেন নির্দেশক স্বয়ং জুলেখা। আর বিবাদী বিভাবতী দেবী হিসেবে আমি, ফটোগ্রাফী এক্সপার্ট হিসাবে শহীদুল আলম (বাংলাদেশ), ইতিহাসবিদ নন্দিনী চ্যাটার্জি (যুক্তরাজ্য), নৃতাত্ত্বিক অহনা পালচৌধুরী (যুক্তরাষ্ট্র), সংস্কৃতিকর্মী অরূপ রাহী (বাংলাদেশ), কিউরেটর রাহাব আল্লানা (ভারত) আর ছিলেন রাজার চরিত্রে দিল্লীর অভিনেতা অরুণ দাস (ভারত)।
জুলেখা জন্মেছেন দিল্লীর সবচাইতে ডাকসাইটে থিয়েটার পরিবারে। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম আলকাজির দৌহিত্রী, বর্তমান সভাপ্রধান অমল আল্লানার সন্তান তিনি। তার কাজগুলো খুব সচরাচরের ঘটনা না। সাধারণত তিনি নানা চাঞ্চল্যকর মামলার ড্রামাটিক পারফরমেন্স মঞ্চস্থ করেন অবশ্যই তার নিজস্ব বার্তা ও ব্যাখ্যা সহকারে। পুরো বিচারটা নতুন করে করেন। বিচারক পর্যন্ত সাধারণত বিচারকদের মধ্যে থেকেই নেওয়া হয়। নানারকম এক্সপার্টদের দিয়ে নানাভাবে ঘটনাপরম্পরাকে বিশ্লেষণ করে নতুন ব্যাখ্যা বা নতুন রায় হাজির করেন। ভাওয়ালের রাজার কেসটা খুবই রোমাঞ্চকর এবং বাঙালি মানসে এর প্রভাব লক্ষণীয়। এই কেসে খুব অদ্ভুতভাবে রাজা দাবি করা ব্যক্তির পক্ষে এবং বিভাবতী দেবীর বিপক্ষে রায় হয় যা এধরনের ইম্পোস্টার কেসে এমনকি বৃটিশ ভারতেও অস্বাভাবিক ছিল। বিভাবতী দেবী বাঙালি জনমানসে একজন লোভী ও পরকীয়ায় লিপ্ত নারী হিসেবে কুখ্যাত। বাংলাদেশের মতো দেশে স্বামীর মৃত্যু যেমন স্ত্রীর দোষ, তেমন স্বামীর মৃতদেহ দেখে সারা রাত কাটানো স্ত্রীর সামনে ৮ বছর বাদে ছাইমাখা সন্ন্যাসী এসে নিজেকে সেই স্বামী বলে দাবি করলে তাকে মেনে না নেওয়া মানে তো অবশ্যই সেই নারী কুলটা! স্বামীকে মেরে রেখে স্বামীর সম্পত্তি ভোগ দখল করে যাচ্ছে যে ‘বাজা’ মহিলা সে তো ষড়যন্ত্রকারী বই কিছুই হতে পারে না! আর এই মহিলা যদি কলকাতায় শিক্ষিত নারী হয়ে থাকেন যিনি স্বামীর মৃত্যুর পর জয়দেবপুরের জঙ্গলে পচে না ম’রে কলকাতায় ভাইয়ের পরিবারের সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তার কী আর বাঙালির জনমানসে নির্দোষ হবার কোনো উপায় আছে? না থাকে? আর আমাকে বলা হলো বিভাবতী দেবীর চরিত্রে অভিনয় করতে হবে! জোটেও আমার কপালেই!
অভিনয়টা শিখতে গেলে আসলে স্বার্থহীন হওয়াটা শিখতে হয়
অডিশনের সময় জুলেখা জানতে চাইলেন, মানুষ ও জীবনের জটিলতা কীভাবে একজন অ্যাক্টর তার থিয়েটারের মাধ্যমে দর্শককে জানাতে পারেন? আমি উত্তরে বলেছিলাম: “মানুষকে এই জগত সম্পর্কে আমি কিছু বিষয় দেখাতে চাই…আমার থিয়েটারে দেখা যায় এবং দেখা যায় না এমন বাস্তবকে, ভুলে যাওয়া বা অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছে এমন বাস্তবকে তুলে আনতে চাই।” এই কাজটা যদি করা যায় তাহলে পরার্থপর তো হয়েই গেলেন! শিল্প আমার কাছে পুরোপুরি একটা রাজনৈতিক প্রকল্প—বিস্মৃতির বিরুদ্ধে; গুম হওয়া চিন্তা, ভাষা, মানুষ , বন, পাহাড়, নদীর পক্ষে। তো এই পরিধি মাথায় নিয়ে যদি চরিত্র নির্মাণে যাই তাহলে অ্যাক্টরের কতভাবে চরিত্র সম্পর্কে জানতে হবে এবং চরিত্রের মধ্যে যে অপরের বাস তার পক্ষে থাকতে হবে। সেটা নিয়ে যখন ভাবি তখন মনে হয় যে, “When one becomes another, one takes on beliefs not one’s own. An audience will come and see me saying things and the way he/she will interpret me is dependent on the fact that I could say those things. Those important things…”— ঐসব গুরুতর ‘থিংস’ হচ্ছে চরিত্রের কাছে জরুরি জিনিস। চরিত্রের সংলাপ তো পানিতে ভাসা হিমবাহের উপরিতলের মতো—১০ ভাগ মাত্র। পানির তলে থাকা বাকি ৯০ ভাগের মধ্যে যে আরও কত কী! কখন একজন অন্যজন হয়ে যেতে পারে? তাহলে চরিত্র কী ধারণ করে নাকি হয়ে ওঠে? এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আমি বরং উদাহরণ দেই। চরিত্র নির্মাণের সময় এই ৯০ ভাগ তথ্য দরকার পড়বে। অপর বা চরিত্রকে বুঝতে হবে।
অ্যাক্টর ‘অপর’কে ভালো করে বুঝতে বাধ্য। কারণ অপরকে বুঝতে হলে তার পরিপার্শ্ব, খাদ্যাভ্যাস, প্রেম, কাম, লোভ, রিপু সবটাই জানতে হয়। কেন সে খারাপ (বা ভালো) সেটা আরেক মানুষ হয়ে দেখার চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। কাজেই অ্যাক্টরকে অবশ্যই চরিত্রের জুতা পায়ে হেঁটে দেখতে হবে যে জুতার ভেতর উঁচিয়ে থাকা পেরেকের মুখ হাঁটার সময় পায়ের তলার ঠিক কোন জায়গায় গুতাটা দেয় আর তাতে ব্যথাই বা লাগে কেমন। আর ওই ব্যথা নিয়ে হাঁটতে হলে কত দ্রুত (বা ধীরে) হাঁটা যায় সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে অ্যাক্টরের খাটুনিটা কিন্তু অনেক, আর পুরোটাই জুতা পরা চরিত্রের সাথে অঙ্গাঙ্গী জড়িত। কাজেই পরের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে অভিনয়ের পদ্ধতিগত শিক্ষা অসম্ভব। আমি যখন বিভাবতী চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের মনে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইব, তখন বিভাবতীকে পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে হবে। নিত্রা স্পষ্ট হয়ে থাকলে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না যে নিত্রা ভাওয়ালের রাজার স্ত্রী হিসেবে ব্রিটিশের বিচারাশালায় নীত হয়েছে—ফলে যোগাযোগ ঘটবে না বলে অভীষ্ট লক্ষ্যে কেউ নীত হব না। না দর্শক না অ্যাক্টর! দর্শক যদিও জানেন যে আমি বিভাবতী নই, তবু তারা বিভাবতীর মতো কাউকে দেখতে চাইবেন। বিভাবতীর মতো কাউকে দেখাতে চাইলে বিভাবতীর কাছে যাওয়া ও তাকে চেনার চেষ্টার কোনো বিকল্প তাই নাই। কীভাবে সেটা সম্ভব এমন একটা নজির দিতে চাই, আরও বহুভাবে চরিত্রের স্বার্থ বোঝানো যায়। আমি আপাতত বিভাবতীর উদাহরণ দিয়েই বুঝাতে চাই ।
পারফর্মেন্সটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল প্রথমভাগে আমরা চরিত্র হয়ে জবানবন্দি বা আমাদের মূল বক্তব্য যার পুরোটাই ঐতিহাসিক সত্য এবং আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত তা পেশ করি। এর পর বাদী মানে সন্ন্যাসীর পক্ষের উকিল হিসেবে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় আমাদের ক্রস-এক্সামিন করেন। ক্রসের সময় আমার জন্য নির্ধারিত উত্তরগুলির বেশিরভাগই বিভাবতীর মূল উত্তর থেকেই নেওয়া—কিন্তু প্রতিটি উত্তরের জন্য আমাকে কারণ খুঁজে বের করতে হয়েছিল। হাতে থাকা তথ্যের উপর ভিত্তি করে অবরোহী অনুমানের মাধ্যমে বিভাবতীর প্রতিটি কর্মকাণ্ডের কার্যকারণ আমাদের অনুমান করতে হয়েছে। আইনজীবি জানতে চাইলেন আমার নাম—বললাম সামিনা লুৎফা, পেশা কী জানতে চাইলে বললাম আমি অ্যাক্টর। উনি বললেন তাহলে আপনাকে বিশ্বাস করার কী আছে! উত্তরে আমি তাকে যা বলেছিলাম তা ইম্প্রোভাইজড ছিল, আমার কাছে ট্রান্সক্রিপশন নাই তবে স্মৃতি থেকে বলতে পারি এরকম কিছু বলেছিলাম: “আমি অভিনয় করি বলেই চরিত্র সম্পর্কে আমাকে অনেক বেশি জানতে হয়, কাজেই বিভাবতীকে আমি যতটা চিনি আপনারা কেউ তত চেনেন না। প্রশ্নই আসে না। উনি যদি মিথ্যা বলে থাকেন আমার চেয়ে বেশি সেটা কেউ জানবে না। এবং আমার মনে হয়নি যে তিনি মিথ্যা বলেছেন।” আমার এই আত্মবিশ্বাসের উৎস কোথায়!
একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল বিভাবতীকে যে তার গৃহস্থালীর খরচের পাই পাই হিসাব তিনি কেন দিতে পারেন নাই। [যেন হিসাব দিতে না পারা বিশাল দুর্নীতি] উত্তরে বিভাবতী বলেন:
: “because I did not pay it all at once. I keep no accounts, and hence there is no account of this.”
এই সংলাপটা বলার জন্য আমাকে খুঁজতে হয়েছে কার্যকারণ। মহড়ায় জুলেখা জানতে চাইলেন যে কেন সে এই হিসাব দিতে পারবে না? আমি অনেক চিন্তা করে দেখলাম আসলেই তো রানির কাছে কেন হিসাব থাকবে না! কিন্তু সংলাপের মধ্যে এবং পরে আরও অনেক লম্বা বর্ণনায় বিভাবতী জানান যে তিনি তো রানির পদমর্যাদা রক্ষা হবার মতো করে চলতে বাধ্য ছিলেন নাহলে তো রাজ পরিবারের দুর্নাম হবে। আমার মনে পড়ল যে আমি ২০০১ সাল থেকে নিজের উপার্জনে চলি। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়া মাসে কোন কাজে কী খরচ করেছি এটা আমার পক্ষে একেবারেই দেওয়া সম্ভব না, এমনকি গত এক সপ্তাহেরটাও না। নিজের টাকা নিজের পরিবারের জন্য খরচ করতে কে হিসাব রাখে! কাজেই যখন সংলাপটা বলি আমি জানি কেন বিভাবতী এই সংলাপে আত্মবিশ্বাসী। আর বিভা যখন জানে কেন সে বলে যে সে কোনো হিসাব রাখে না, তখন দর্শক তাকে বিশ্বাস করে কারণ নিত্রা জানে যে কেন বিভার কাছে হিসাব থাকার কথা না। নিত্রা যদি আত্মবিশ্বাসী না হয় বিভা আত্মবিশ্বাসী হতে পারবে না কারণ নিত্রার শরীর-মনের ভেতর দিয়েই বিভার বাস্তবতা সম্পর্কের সূত্রে গ্রথিত হয় দর্শকের সাথে। কাজেই বিভা মিথ্যা বললেও নিত্রা সেটা জানবেই। এটুকু অনুমান না করতে পারলে অভিনয় করা কেবল মুশকিল নয়—অসম্ভবও বটে। কাজেই অভিনয় করার জন্য চরিত্র নামে অপরের স্বার্থের প্রতি যত্নবান হতেই হবে।
বিভাকে নিত্রার নজর দিয়ে বা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে (বিচার করার দৃষ্টি দিয়ে) নয় বরং বিভা কেন ওই সময়ে ওই অবস্থায়, কোন ভাবনা থেকে কী বলছেন তা একেবারে ঠিকঠাক বুঝে নিতে হবে নয়তো দর্শক বুঝে যাবেন যে নিত্রা আর বিভা এক হয় নি। নিত্রা বিভাকে দেখাচ্ছে বা শোকেস করছে। অভিনয় শিখতে তাই পরার্থপর হওয়া শিখতে হবে।
উপসংহার: পরার্থপর হবার প্রশিক্ষণ লাগলে অভিনয় শেখা যেতে পারে
যারা অভিনয়শিল্পের সাথে যুক্ত নন, তারা শিখে নিতে পারেন অন্যের জুতায় পা দিয়ে তার বেদনা বোঝার চেষ্টা করার এই কৌশল। অন্যের পয়েন্ট-অফ-ভিউ থেকে পৃথিবীটা দেখলে অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা অনেক কমানো সম্ভব। কাজেই সমাজবিজ্ঞান গবেষক যেমন অন্যের জুতায় পা দিয়ে তার দুঃখ-ব্যথা বোঝার চেষ্টা করে, অ্যাক্টররাও তাই করেন। আরও এক ধাপ এগিয়ে তারা স্বপ্নের এবং আকাঙ্ক্ষার জগতের একটা ছবিও আমাদের দেখাতে পারেন। সাহসের পথে নিয়ে যেতে পারেন কম সাহসী মানুষদের। কাজেই উভয়ের উভয়ের কাছে শেখার আছে বহুকিছু। মূল কথাটা যদি হয় যে শিল্প একটা রাজনৈতিক প্রকল্প—বিস্মৃতির বিরুদ্ধে; গুম হওয়া চিন্তা, ভাষা, মানুষ , বন, পাহাড়, নদীর পক্ষে তাহলে পরার্থপরতা তো এমনিতেই হলো, বাই ডিফল্ট।
কল্যাণ হোক!
পুনশ্চ: আমাদের পারফর্মেন্সের মধ্যে ফটোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ ফটোগ্রাফির তত্ত্ব দিয়ে প্রমাণ করে দেন সে উপস্থিত সন্ন্যাসী রাজা নন। তাকে হস্টাইল সাক্ষী ঘোষণা করেন বাদীর উকিল এবং মামলার রায় বাদীর বিপক্ষে যায়! আমাদের বিচারের রায়টা রাজার বিপক্ষে যায়!
পুন:পুনশ্চ: To me, performance is how I see the world. How it is and how I want it to be —it is a political position. It is a question of reality—what was, what is and what can be made real or can be exposed as something truthful. As a sociologist I look from the outside but the actor begins from inside. When I analyze Bibhabati, I have to expose her truths as well as her lies—I have to inhabit her without judgement as there is no other way of building a character. Therefore, no one else but me can really know her: her sorrows, her preferences, her lies and her truths!